1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
ধ্বংসের পথে দেশের সবচেয়ে বড় ও মূল্যবান ওয়াকফ এস্টেট। রক্ষার্থে নিবেদিতপ্রাণ নবাব সলিমুল্লাহ'র বংশধর খাজা ইকবাল আহসানুল্লাহ - journalstate
২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| সকাল ১০:২০|
শিরোনামঃ
জুলাই স্পিরিটকে সমুন্নত রাখাই হোক ডাকসু নেতৃত্বের প্রধান কাজ। ভোলা-২ আসনে ধানের শীষ প্রত্যাশী ছাত্রদলের মৃত্যুঞ্জয়ী ও একাধিকবারের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ ওয়ালিউদিন অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল এর চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনাম ও এমডি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ধানের শীষের পক্ষে একত্রিত হতে হবে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার শিশুদের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন পিরোজপুর-২ আসনে ধানের শীষ প্রত্যাশী ছাত্রনেতা থেকে তরুণ আইনজীবী নেতা মোঃ মাহবুবুর রহমান সিকদার বাংলাদেশ তুমি কার? উর্দুভাষী বিহারি বাদে সবার! ধ্বংসের পথে দেশের সবচেয়ে বড় ও মূল্যবান ওয়াকফ এস্টেট। রক্ষার্থে নিবেদিতপ্রাণ নবাব সলিমুল্লাহ’র বংশধর খাজা ইকবাল আহসানুল্লাহ এনসিপির জনসমর্থন বাড়ছে বিদ্যুৎ গতিতে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলেন ইঞ্জিনিয়ার জিয়া

ধ্বংসের পথে দেশের সবচেয়ে বড় ও মূল্যবান ওয়াকফ এস্টেট। রক্ষার্থে নিবেদিতপ্রাণ নবাব সলিমুল্লাহ’র বংশধর খাজা ইকবাল আহসানুল্লাহ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫,
  • 1206 Time View

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি ঢাকা শহরেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি। পবিত্র কুরআন এবং মহানবী (সঃ) এর বাণীর মাধ্যমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে সম্পদশালী মুসলিম পরিবারগুলো তাঁদের সম্পদের বড় একটি অংশ ধর্মীয়, শিক্ষামূলক এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য পুরোপুরি স্বত্ব ত্যাগ করে এবং কেবল পরকালে পূণ্যপ্রাপ্তির আশায় দান করে যেতেন। এই দান করার প্রথাকে বলা হয় ‘ওয়াকফ’ এবং দানকৃত সম্পত্তিকে বলা হয় ‘ওয়াকফ সম্পত্তি।’

রাজধানীতে অবস্থিত সবচেয়ে বড় ও সর্বাধিক মূল্যবান ওয়াকফ সম্পত্তি হলো ‘আইনুদ্দিন হায়দার-ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেট।’ ঢাকা মহানগরীর প্রায় ১২ হাজার পাঁচ শ’ একর জমি এই এস্টেটের অন্তর্গত। ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে একজন প্রভাবশালী মুসলিম ম্যাজিস্ট্রেট আইনুদ্দিন হায়দার মৃত্যুর পূর্বে তাঁর প্রায় পুরো সম্পত্তি (৮ হাজার একর জমি) ইসলাম প্রচার এবং ইসলামি শিক্ষা প্রসারের জন্য দান করে যান। কিছুকাল পরে তাঁর স্ত্রী ফয়জুন্নেসা বিবি মৃত্যুর পূর্বে তাঁর মালিকানাধীন সম্পত্তিও (৪ হাজার পাঁচ শ’ একর জমি) একই উদ্দ্যেশ্যে ওয়াকফ করে যান। আর ফয়জুন্নেসা বিবি ১৮৭৭ সালে ঢাকার নবাব স‍্যার খাজা আহসানউল্লাহ বাহাদুরকে এই এস্টেট এর প্রথম মোতয়াল্লি নিয়োগ করেন এবং তারপর ধারাবাহিকভাবে এই নওয়াব পরিবারের কাছে ওই এস্টেটের নিয়ন্ত্রণ থাকে দেড় শতাধিক বছর ধরে।

উল্লেখ্য যে, আইনুদ্দিন হায়দার-ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেট ঢাকা নওয়াব ওয়াকফ এস্টেটের চারটি পৃথক এস্টেটের মধ্যে একটি, যার মোতোয়াল্লি ১৫০ বছর যাবত ঢাকা নওয়াব পরিবারের মধ্যে হতেই নিয়োগের বিধান রয়েছে খাজা আলীমুল্লাহ’র ১৮৫৪ সালের ওয়াকফ দলিলে। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ১৯/১২/২০২১ইং তারিখে ওয়াকফ প্রশাসক কর্তৃক ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ’র বংশধর ও মরহুম খাজা আব্দুল গনি’র পুত্র ব্যারিস্টার ড. খাজা ইকবাল আহসানুল্লাহ ইসি নং- ৪১১/সি (আইনুদ্দিন হায়দার-ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেট) এর স্থায়ী/ নিয়মিত মোতোয়াল্লি নিযুক্ত হন এবং পরবর্তীতে ওয়াকফ্ প্রশাসক কর্তৃক ১১/০৯/২০২৪ইং তারিখে  ইসি নং- ৪১১/এ, ৪১১/বি, ৪১১/সি ও ৪১১/ডি এর মোতোয়াল্লি নিযুক্ত হন। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্তির পর মহামান্য চেম্বার জজ আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আট সপ্তাহের একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে ফুল বেঞ্চে রেফার করে দেন এবং একটি লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি প্রার্থনা) মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে।

তথ্য সংগ্রহ করে জানা যায় যে, দেশের সর্ববৃহৎ ওয়াকফ সম্পত্তি ‘আইনুদ্দিন হায়দার-ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেট’ এর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে প্রথম মামলা হয় ১৯৪৪ সালে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরো বেশ কিছু মামলা হয় যা আজ অবধি অমীমাংসিত থেকে গেছে। বর্তমানে চলমান একটি মূল মামলা (মোকদ্দমা নং- ২৮৪৯/২১) হচ্ছে আইনুদ্দীন হায়দার-ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং- ৪১১/সি) মোতোয়াল্লি নিয়োগ সংক্রান্ত একটি রিট মামলার রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল। মূল রিট পিটিশন ৫৭৬৯/২০১৬ এর আবেদনকারী আবুল কালাম আনসারি নামক একজন বহিরাগত ব্যক্তি যিনি প্রতারণার মাধ্যমে ওয়াকফ প্রশাসক দ্বারা দুই বছরের জন্য ২০১১ সালে ইসি নং- ৪১১/সি এর অফিসিয়াল মোতোয়াল্লি নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং পরবর্তীতে আরো দুই বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত  টানা চার বছরে বেপরোয়াভাবে এস্টেটের বহু সম্পত্তি তসরুপ ও লুটপাট করে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেয় এবং নওয়াব পরিবারের সদস্যদেরকে (বেনিফিসীয়ারীদের) তাদের ন্যায্য হক থেকে বঞ্চিত করেন। ৫৭৬৯/১৬ রিটটি দুইজন বহিরাগত আবুল কালাম আনসারি এবং আইউব আলীর মধ্যে মোতোয়াল্লি নিয়োগ সংক্রান্ত যাতে নবাব পরিবারের সদস্য হিসেবে খাজা ইকবাল আহসানুল্লাহ  সংযুক্ত পক্ষ হিসেবে অংশ নিয়ে পরবর্তীতে মোতোয়াল্লি হিসেবে  নিয়োগ লাভ করেন। এই লিভ টু আপিল সেই নিয়োগের বিরুদ্ধে করা হয় সেই বহিরাগত আবুল কালাম আনসারী কর্তৃক। আপিলটি অতি দুর্বল হওয়ার কারণে আনসারী আরো ১২/১৩টি মামলা সংযুক্ত করেন আদালতকে বিভ্রান্ত করে লিভ পাওয়ার জন‍্য।

১৯১৩ সালে “The Mussalman Waqf Validating Act, 1913” পাস হলে তৎকালীন ওয়াকফ বোর্ড এই মহতী দম্পতির দানকৃত পুরো ১২ হাজার পাঁচ শ’ একর জমিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধন করে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, যেসকল উদ্দেশ্যে তারা তাদের বিপুল সম্পত্তি ওয়াকফ করে গেছেন, তার কোনোটাই আজ সাধিত হচ্ছে না, জনসাধারণের কোনো কল্যাণেই আসছে না। অনুসন্ধান করে জানা যায় যে, ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একশ্রেণির ভূমিখেকো আজও দখলে রাখতে পারছে সেসকল ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো। আর তাদের মদত যোগাচ্ছে মোয়াতাল্লির মিথ্যা দাবিদার আবুল কালাম আনসারী (জামাল) এবং পেশাদার প্রতারক ও ভুয়া নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী (আসল নাম কামরুল হাসান হৃদয়) গং।

ওয়াকফ সম্পত্তি দেখভাল করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীনে রাজধানীর ৪, নিউ ইস্কাটন রোডে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয় বলে একটি সংস্থা রয়েছে। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, একশ্রেণির অসাধু ও প্রতারক ব্যক্তি আইনুদ্দিন হায়দার-ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেট এর স্থায়ী/নিয়মিত মোতায়াল্লি খাজা ইকবাল আহসানুল্লাহ’র নাম ভাঙ্গিয়ে, মিথ্যা আমমোক্তারনামা এমনকি দলিল সৃজন করে সাধারণ মানুষকে জমি লিজ দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে আইনুদ্দিন হায়দার-ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেট এর স্থায়ী/নিয়মিত মোতায়াল্লি খাজা ইকবাল আহসানুল্লাহ’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি   জানান যে, ‘বিজ্ঞ আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি দায়িত্ব পালনে বিরত রয়েছি। আমি ড. খাজা ইকবাল আহসানুল্লাহ মোতোয়াল্লি নিয়োগপ্রাপ্তি থেকে অদ্যাবধি কাউকে কোনোরকম আমমোক্তারনামা, সাধারণ ক্ষমতা প্রদান করিনি কিংবা কোনো ধরনের চুক্তিতে আবদ্ধ হইনি। যদি কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থা এই ধরনের কোনো ভুয়া ও সৃজিত দলিলের মাধ্যমে কাউকে বিভ্রান্ত করে বা করার চেষ্টা করে তবে তা একটি প্রতারণামূলক কাজ হিসেবে গণ্য হবে।’

তিনি এই প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এই প্রতারণার বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সকলকে সতর্ক করা সত্ত্বেও, এরপরও কেউ যদি কোনো প্রকারের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন, তার জন্য তিনি কোনো প্রকারের দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025