ভ্যাক্সিন না পেলে বন্দর অচল করার হুমকি নাবিকদের

Economic International National Politics

রেমিট্যান্স যোদ্ধা নাবিকদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করোনার ভ্যাক্সিন প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চীফ ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা, মহাসচিব মেরিন ইঞ্জিনিয়ার (অফিসার) রেদওয়ান সিকদার এবং মুখপাত্র প্রকৌশলী কামরুল হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের নাবিকদের দ্রুত ভ্যাক্সিনেশন আওতায় আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন ; বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রতিবছর রেমিট্যান্স যোদ্ধা মেরিনাররা যোগান দিচ্ছে কমপক্ষে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। একজন ক্যাপ্টেন /চীপ ইঞ্জিনিয়ার প্রতি মাসে দেশে পাঠাচ্ছে প্রায় ১২ হাজার মার্কিন ডলার। শিপিং সেক্টরের মাধ্যমে আমদানি রপ্তানি বানিজ্যের ৯৫ শতাংশ পরিবহন সম্পন্ন হচ্ছে। অথচ অতীব দুঃখের বিষয় সেই নাবিকদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করোনা ভ্যাক্সিন প্রদানের কোনো তৎপরতা আমরা লক্ষ্য করছি না।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে; নৌ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, সচিব এবং নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের সম্মানিত মহাপরিচালক বার বার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার পরেও মেরিনারদের ভ্যাক্সিন প্রদানের বিষয়ে কোনোরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশন এবং দেশের ১২ হাজার নাবিক গভীর হতাশ এবং দুঃখিত।

দেশের জাতীয় অর্থনীতিরে এমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পরেও যথাযথ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-মর্যাদা না পাওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে, মেরিনারদের দ্রুত ভ্যাক্সিনেশন আওতায় আনতে না পারলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের মেরিনাররা চাকরি হারাবে। যার ফলশ্রুতিতে জাতীয় এই সংকটকালীন মুহুর্তে বাংলাদেশ হারাবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে তারা আরোও উল্লেখ করেন যে; ইতেমধ্যেই জাতিসংঘ ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের প্রস্তাবে নাবিকদের #KeyWorkers হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকার সেই ঘোষণায় সাক্ষর করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স যোদ্ধা #Frontlineworkers মেরিনাররা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকা পাবে না, তা মেনে নেওয়া যায় না। এবিষয়ে জাতীয় স্বার্থে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের নেতারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন ; নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে মেরিনারদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকা প্রদানের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে প্রয়োজনে কর্মবিরতি পালন করে চট্টগ্রাম-মংলা বন্দর অচল করে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *