রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দিয়ে দুর্নীতিবাজ আমলাদের ধরুন

International National

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা, পরামর্শক এবং মানবাধিকার সংগঠন ওয়ার্ল্ড স্ট্রাটেজিক কংগ্রেস।

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে অভিযোগ আনাকে বাকস্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের মানুষের তথ্য চাওয়া-পাওয়ার অধিকারের ওপর নির্মম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।

বুধবার ওয়ার্ল্ড স্ট্রাটেজিক কংগ্রেসের বাংলাদেশ বিষয়ক স্টেট কাউন্সিলর প্রকৌশলী রেদওয়ান সিকদার এক বিবৃতিতে বলেন; সরকার কীভাবে কোভিড-১৯ টিকা কিনছে, সে-বিষয়ক তথ্য জনস্বার্থমূলক। এই তথ্য জাতীয় নিরাপত্তার মোড়কে গোপন করা উচিত নয়।

‘মহামারির সময়ে জনস্বাস্থ্য খাত কীভাবে কাজ করছে, সে বিষয় খুবই জনস্বার্থমূলক। রোজিনা ইসলাম কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম তুলে ধরেছেন। তাঁর গ্রেপ্তার ভিন্নমত বা সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে কালাকানুনের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার ওপর আরও বড় আঘাতের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে ইঙ্গিত করে।

বিবৃতিতে ওয়ার্ল্ড স্ট্রাটেজিক কংগ্রেসের বাংলাদেশ বিষয়ক স্টেট কাউন্সিলর প্রকৌশলী রেদওয়ান সিকদার আশা করেন, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং বৃহস্পতিবারই তিনি মুক্তি পাবেন। সেই সাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তার নির্বাহী ক্ষমতায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানান এবং দুর্নীতিবাজ আমলাদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার অনুরোধ করেন।

ওয়ার্ল্ড স্ট্রাটেজিক কংগ্রেসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোজিনা ইসলামকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আমলযোগ্য ফৌজদারি অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এই শঙ্কা তৈরি করেছে যে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবেদন করার কারণেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ওই ধরনের প্রমাণ না থাকায় কর্তৃপক্ষের উচিত হবে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া।

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনে গত সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাঁকে সেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে শাহবাগ থানায় এনে তাঁর বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় এখন কারাগারে আছেন রোজিনা ইসলাম।

বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পরিচিত মুখ রোজিনা ইসলাম সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি এবং কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেছেন।

রোজিনা ইসলাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর এক টুইটে এই ঘটনাকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছিল জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন সংগঠন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *